ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
ভূরুঙ্গামারীতে বিভিন্ন ইউনিয়নে গবাদিপশু ক্যাপরিপক্স ভাইরাসের মধ্যমে ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ’ রোগে আক্রান্ত হয়েছে। রোগটির সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক নেই। এরই মধ্যে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে গরু মারা যাওয়ার এমন খবরও পাওয়া যাচ্ছে। কোরবানির ঈদের আগে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অনেক খামারিরা। রোগটি ব্যাপক আকার ধারণ করলে গ্রামের কিছু হাতুরে ডাক্তার দিয়ে চলছে চিকিৎসা সেবা। এতে গরু সুস্থ না হয়ে উল্টো আরো অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
প্রাণীসম্পদ বিভাগের লোকজন জানান, ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ ভাইরাস’ রোগের সংক্রমণ বেড়েই চলেছে। এর সুনির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। লক্ষণ দেখে আক্রান্ত পশুকে পেনিসিলিন, এন্টি হিস্টামিন এবং জ্বর হলে প্যারাসিটামল দিলে কিছুটা উপকার পাওয়া যায়। এন্টিসেপটিক হিসেবে খাবার সোডা পরিমাণ মতো পানিতে মিশিয়ে আক্রান্ত পশুকে খাওয়ানোর পরামর্শ দেয়া হচ্ছে খামারিদের। এ ছাড়াও বিভিন্ন সমিতি কর্তৃক আয়োজিত গাভী পালন প্রশিক্ষনে প্রশিক্ষক হিসেবে অংশগ্রহণ অতঃপর সুফল ভোগিদের গাভী পালন ও ” লাম্পি স্কিন ডিজিজ ” বিষয়ে সম্যক ধারনা দিচ্ছেন মোঃ রফিকুল ইসলাম, উপ-সহকারী প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা (সম্পসারন) ভূরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি বাড়িতে এই রোগ দেখা দিয়েছে। ছড়িয়ে পড়েছে গ্রামের পর গ্রাম। গরু নিয়ে বিপাকে পড়েছে মানুষ। করোনা পরিস্থিতিতে টাকা পয়সা হাতে না থাকায় আক্রান্ত গরুর চিকিৎসা চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পশুর মালিকদের।
শিলখুড়ি ইউনিয়নের মোঃ আব্দুর রউফ, পিতা- আলহাজ্ব মোঃ আব্দুল খালেক বলেন, তাদের নয়টি গরুসহ এলাকার অনেক গরু এ রোগে আক্রান্ত। এছাড়া এই গ্রামসহ অন্যান্য প্রত্যেক বাড়ি ও মহল্লাতে ভাইরাসটি হানা দিচ্ছে।
খামারীরা জানান, কোনো বাড়ি বাদ নেই। সবার গরুর অসুখ হয়েছে। উপসর্গের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, প্রথমে গরুর জ্বর হয়, এর পর গা গুটি গুটি হয়ে ফুলে যায়। ঘা হয়ে পেকে ফেটে গিয়ে পুঁজ বের হয়। কাঁপুনিও থাকে।
ভূরুঙ্গামারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কে. এম. ইফতেখারুল ইসলাম (অ.দা.) জানান, আক্রান্ত পশুকে আলাদা করে রাখে রাখতে হবে। এবার নতুন করে ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ ভাইরাস’ রোগটি দেখা দিয়েছে। প্রায় ২০ দিন ধরে এই ক্যাপরিপক্স ভাইরাসটি গ্রাম অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। এই অসুখটিকে ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ ভাইরাস’ বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এই রোগে আক্রান্ত পশুর চামড়া ফুলে গোটা গোটা হচ্ছে। পরে তা ঘায়ে পরিণত হয়ে ফেটে রস বের হয়। এমনকি পশুর জ্বর হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। তবে জনবল সংকট থাকায় চিকিৎসা সেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে। আক্রান্ত পশুর লক্ষণ দেখে চিকিৎসা দিলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

Leave a Reply