স্যার ব্র্যাডম্যানের ৩৩৪ রানে এসে থামলেন তামিম ইকবাল!

তামিম ছাড়িয়ে গেলেন রকিবুলকেও। বাংলাদেশের হয়ে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরির মালিক রকিবুল হাসানের রান ছিল ৩১৩। তামিম সেই স্কোর টপকে করলেন অপরাজিত ৩৩৪ রান।

ইস্টজোনের হয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) তৃতীয় দিনের লাঞ্চ বিরতির খানিকবাদে তামিম ইকবাল তার ট্রিপল সেঞ্চুরি পুরো করেন। ৪০৭ বলে ৪০ বাউন্ডারিতে ক্যারিয়ারে নিজের প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরির পর তামিম দ্রুত রান তোলার দিকে মনোযোগ দিলেন। পাঁচ বলে তিন ছক্কা হাঁকালেন। শুভাগত হোমকে দিয়ে তার ছক্কার শুরু। সোহরাওয়ার্দি শুভ’র পরের ওপরে আরো দুই ছক্কা হাঁকিয়ে তামিম পৌঁছে গেলেন ৩৩৪ রানে। ইস্টজোনের রান তখন ২ উইকেটে ৫৫৫ রান। সেই রানেই প্রথম ইনিংসের ঘোষণা দেয় ইস্টজোন।

একটু মনে করিয়ে দেই টেস্ট ক্রিকেটে স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের সর্বোচ্চ রানও কিন্তু ৩৩৪ রান। স্যার ডনের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তামিমও কি ঠিক সেখানেই নিজেকে থামিয়ে রাখলেন?

ট্রিপল সেঞ্চুরির পর যেভাবে খেলছিলেন তাতে নিশ্চিত চারশ রানের ইনিংস ছিল তামিমের হাত বাড়ানো দূরত্বে! কিন্তু নিজেকে থামালেন তামিম অপরাজিত ৩৩৪ রানে।

৪২৬ বলে ৪২ বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায় অপরাজিত ৩৩৪ রান। স্ট্রাইকরেট ৭৮.৪০। পুরো ইনিংসে কোনো দাগ নেই। ব্যাট হাতে যখন যা করতে চেয়েছেন তাই করতে পেরেছেন তামিম এই ইনিংসে। লম্বা সময় ফিল্ডিংয়ে থাকা প্রতিপক্ষ সেন্ট্রাল জোনের ক্রিকেটাররাও জানাচ্ছেন-‘কি অসাধারণ ব্যাটিং!’

মিরপুরের শের-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনেক কীর্তি গড়েছেন তামিম। আর রোববার, ২ ফেব্রুয়ারি এই মাঠে যা করলেন সেটা নিয়ে নাতি-নাতনীদের সঙ্গে গল্প করার অনেক বড় একটা উপলক্ষ তৈরি করে ফেললেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের সেরা এই ব্যাটসম্যান।

প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা ইনিংসগুলোর ক্রম তালিকা তৈরি করলে এখন তামিম ইকবাল খানের নামটা থাকবে সবার উপরে।

তালিকটা ঠিক এমন: তামিম অপরাজিত ৩৩৪। রকিবুল হাসান ৩১৩। নাসির হোসেন ২৯৫। মার্শাল আইয়ুব ২৮৮। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ২৮২। শামসুর রহমান ২৬৭।