কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) আলুবীজ নিয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন আলু চাষিরা। তারা জমিতে আলুর বীজ রোপণ করে দেখে অর্ধেক চারাও গজায়নি। খাবার আলুকে বীজ হিসেবে দেওয়ায় এ রকম হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।
ভুক্তভোগী কৃষকরা জানায়, বিএডিসি পাকুন্দিয়া এবং কিশোরগঞ্জ জোন থেকে আলুবীজ এনে এ বছর আলু চাষ করেছেন এলাকার কৃষকরা। কিন্তু জমিতে অর্ধেকের বেশি বীজে কোনো চারা গজায়নি। কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এর দায়ভার নিচ্ছে না কেউ।
আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের মধ্য জামাইল ব্লকের লিডার মো. শাহীন আহম্মেদ জানান, তিনি ১০ একর জমিতে বিগত ৫ ডিসেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর ডায়মন্ড ও কারেজ জাতের ভিত্তি হতে প্রত্যায়িত শ্রেণির আলু চাষ করেন। যার মধ্যে কারেজ জাতের আলুবীজ রোপণ করেন শতকরা বিশ ভাগ জমিতে এবং বাকি আশি ভাগ জমিতে ডায়মন্ড জাতের আলু চাষ করেন। কারেজ জাতের বীজ থেকে ভালো চারা গজালেও ডায়মন্ড জাতের রোপণ করা আলুর অর্ধেক চারাই গজায়নি। এর মধ্যে একবিঘা জমিতে পুনরায় বাজার থেকে আলু কিনে রোপণ করেছেন।
একই এলাকার কৃষক মুস্তাকিন, মো. আসাদ মিয়া, মো. ইকবাল মিয়া ও বোরহান মিয়াসহ আরও কয়েক জন বলেন, আমরা এমনিতেই গরিব কৃষক। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ভালো ফলনের আশায় বিএডিসির আলু চাষ করে এখন বিপাকে পড়েছি।
হোসেনপুর উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. তারিকুল হাসান সরেজমিনে পরিদর্শন করে এর সত্যতা পেয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, কৃষকদের এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত রোববার (১২ জানুয়ারি) তিনি জমিতে যান। গিয়ে অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছেন।
একই অবস্থা সিদলা ইউনিয়নের গড়মাছুয়া ব্লকের।
সাধারণত রোপণ করার জন্য আলু ৭০ থেকে ৭৫ দিন হলেই উত্তোলন করতে হয়। কিন্তু ওজন বাড়ানোর জন্য কৃষকরা ৮৫ থেকে ৯০ দিন ক্ষেতে রাখেন, যা খাবার আলু হিসেবে বাজারে বিক্রি করা হয়। সে আলুগুলো চুক্তিবদ্ধ কৃষকদের বীজ হিসেবে দিতে বাধ্য করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিএডিসির সতর্কতার অভাবের কারণে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
এ বিষয়ে বিএডিসি পাকুন্দিয়া আলুবীজ জোনের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নায়েব আলীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কুষ্টিয়া থেকে সরবরাহ করা আলুবীজের দুকয়েকটি ব্লকের ক্ষেত্রে এ রকম হয়েছে।

Leave a Reply