এস এম সালমান হৃদয়, বগুড়াঃ বগুড়া জেলার কাহালু উপজেলার নারহট্ট ইউনিয়নের লহড়াপাড়া একটি ভয়ংকর গ্রামে পরিণত হয়েছে। এই গ্রামের মানুষেরা একসময় ঐক্যবদ্ধ থাকলেও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসী দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে যায়। নির্বাচনে জনপ্রিয়তার কারণে সাবেক চেয়ারম্যানকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর চেষ্টা করে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রুহুল আমিন তালুকদার বেলাল ও তার অনুসারীরা। বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে রুস্তম আলী এলাকার রাস্তাঘাট ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর ৫ আগস্ট হারুন বাহিনী আবারও সক্রিয় হয়। তারা রুস্তম আলীর বাবাকে হত্যা করে, বসতভিটা ভাঙচুর করে, গরু ছিনতাই করে, ধান মাড়াই কল লুট করে এবং মাহিন্দ্রা ট্রাক্টরে আগুন ধরিয়ে দেয়। শুধু তাই নয়, তারা নজুর বাড়ি, টুকুর বাড়ি, মজিদের বাড়ি, বাদলের বাড়ি, গোফফারের বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করে। রুস্তমের নিজস্ব পুকুর থেকে মাছ ধরে বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করে।
অসহায় নিরীহ রিফাতকে নির্মমভাবে আক্রমণ করে তার দুই পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। এ হামলায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে তোহা খান (পিতা মৃত আব্দুর রহমান) ও দীন মোহাম্মদ (পিতা গোলাম রব্বানী)। হামলায় রিফাতের বাবা-মাকেও মারধর করা হয় এবং উল্টো তাদেরকে রুস্তম আলীর বিরুদ্ধে মামলা করতে বাধ্য করা হয়।
হারুন বাহিনীর সদস্যরা হলেন, হারুন মেম্বার (সরদার, পিতা মৃত মুসলিম), মেহেদী হাসান (পিতা শাহজাহান আলী), শেখ মোঃ জোবায়দুর রহমান জিহাদ (পিতা শাহজাহান আলী), মোঃ রহিম (পিতা বসির), মোঃ সেলিম (পিতা ইদ্রিস), লাল মিয়া (পিতা ইদ্রিস), মোঃ জোব্বার (পিতা গনি মন্ডল), হায়দার (পিতা রমজান মন্ডল), আজমল (পিতা কিনু মন্ডল), মোঃ রহিম (পিতা কিনু মন্ডল), হুদাইফা (পিতা হায়দার আলী), তোহা খান (পিতা মৃত আব্দুর রহমান), দীন মোহাম্মদ (পিতা গোলাম রব্বানী), আতা (পিতা জোব্বার) সকলে লহড়াপাড়া, কাহালু, বগুড়ার বাসিন্দা।
হারুন স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততা দেখালেও প্রকৃতপক্ষে তিনি রুহুল আমিন তালুকদার বেলালের এজেন্ট হিসেবে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন নারহট্ট ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রার্থী শেখ মোঃ জোবায়দুর রহমান জিহাদ।
এলাকার গ্রাম কমিটির বর্তমান সভাপতি ও লহড়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম রব্বানীও চাপে রয়েছেন। হারুন বাহিনী এই এলাকার সাইফুল ইসলামের কাছ থেকে এক লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সাইফুল ইসলামের ছেলেকে মারধর করা হয়। পরবর্তীতে ভয়ে পরিবারটি তাদের সম্পদ বিক্রি করে, এবং তিনটি পরিবার থেকে মোট তিন লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় এই বাহিনী।
Leave a Reply