
কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ
বুধবার(০২ সেপ্টেম্বর) লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় কারাগার থেকে দেশে ফিরেছেন ২৫ বাংলাদেশী। দুপুরে ভারতের কোচবিহার জেলার চ্যাংড়াবান্ধা চেকপোস্ট দিয়ে বাংলাদেশের বুড়িমারী চেকপোস্ট হয়ে দেশে ফিরেন তারা। ফেরত বাংলাদেশীরা সবাই কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নের ব্যাপারীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া , ভ্রমন ভিসায় ভারতে গিয়ে কাজ করা এবং ভিসার বিধি ভঙ্গ হওয়ায় তাদেরকে আটক করে জেলহাজতে প্রেরন করে ভারতীয় পুলিশ। এরমধ্যে ভারতের জেলে থাকা অবস্থায় গত ১ জুলাই ২৬ জনের মধ্যে বকুল মিয়া নামে এক বাংলাদেশি মারা গেলে চারদিন পর তার মরদেহ দেশে স্বজনদের কাছে ফেরত পাঠানো হয়। জানা যায় বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে ভারত সরকারের প্রসিকিউশন মামলাটি বন্ধ করার সম্মতি দেয়। সেই অনুযায়ী উভয় পক্ষের আইনজীবীদের শুনানির পর ধুবড়ি বিচারক কারাগারে বন্দি ২৫ জন বাংলাদেশিকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতির আদেশ দেন।
আদালতের আদেশ প্রাপ্তির পর আটক ২৫জন বাংলাদেশীকে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করে ভারতীয় পুলিশ। অবশেষে বুধবার দুপুরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী(বিএসএফ) ও বডার গার্ড বাংলাদেশ(বিজিবি) এর উপস্থিতিতে ভারতীয় পুলিশ তাদেরকে বুড়িমারী স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে পাঠান। পরে ফেরৎ আসা বাংলাদেশীদেরকে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে বুড়িমারী ইমিগ্রেশন পুলিশ।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময় কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নের ২৬জন বাংলাদেশি ভ্রমন ভিসায় বৈধভাবে ভারতে যান। সেখানে গিয়ে তারা বিভিন্ন খামারে দিনমজুরীর কাজ করতেন। ভারতে অবস্থানকালে তারা বৈশ্বিক মহামারী করোনার লকডাউনের কবলে পড়েন। ভারতের দ্বিতীয় দফা লকডাউন শেষ হওয়ার একদিন আগে গত ২ মে ওই ২৬ জন বাংলাদেশি দু’টি মিনিবাস যোগে আসামের জোরহাট জেলা থেকে দেশে ফেরার উদ্দেশে রওনা দেন। পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার চেংরাবান্ধা চেকপোস্টে আসার পথে তাদের আটক করে আসামের ধুবড়ি জেলা পুলিশ। আটককৃতদের করোনা পরীক্ষার পর প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রেখে পরে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয় ।
বুড়িমারী স্থলবন্দর চেকপোস্টের ইমিগ্রেশন পুলিশের ইনচার্জ উপ পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন বাংলাদেশীদের ফেরৎ আসার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী সকল প্রকার কাগজপত্র প্রস্তুত করে আমরা ২৫ বাংলাদেশি নাগরিককে তাদের স্বজনের হাতে হস্তান্তর করেছি।
Leave a Reply